Simple way for motivation & skill development

Thursday, April 4, 2019

দলকে নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলী (team leader qualities)

দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যে সব গুণাবলী প্রয়োজন(team leader qualities)





দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যে সব গুণাবলী প্রয়োজন(team leader qualities)
দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যে সব গুণাবলী প্রয়োজন(team leader qualities)





১. সদস্যপদ (Membership) : ফলপ্রসূ নেতা হতে হলে নেতাকে সর্বপ্রথম সংগঠনের সদস্যপদকে মুখ্য হিসেবে গণ্য করতে হবে। এ কারণে প্রবীণ সদস্য নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। প্রবীণ ব্যক্তি দলের সকল সদস্য সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা রাখেন এবং অভিজ্ঞতার আলোকে নেতৃত্ব দানে সফল হন।
২. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (Education & Training) : নেতার সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উচিত। এতে অধস্তন ও অন্যান্য ব্যক্তিদের নিকট তার কদর বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান চালনার ব্যাপারে তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হয়।
৩. শক্তি, সামর্থ্য ও ঝুঁকি গ্রহণের সাহস (Energy, Ability and Capacity of facing risk) :  নেতার সকল প্রকার ঝুঁকি গ্রহণের  মতা থাকা বাঞ্ছনীয়। নেতাকে পর্যাপ্ত মানসিক ও দৈহিক শক্তির অধিকারী হতে হয়। সাহসের সাথে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। যে কোন সময় তাকে জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ সময় মনোবল ঠিক রেখে তাকে সমস্যা সমাধানের জন্য পরিশম করে যেতে হয়। এজন্য তার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দরকার আছে।
৪. নীতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশেষায়িত জ্ঞান (Specialised Knowledge about policy  & procedure) : নেতার সংগঠন নীতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হয়। যার ভিত্তিতে তিনি সংগঠন পরিচালনা করেন।
৫. উদ্ভাবনী শক্তি (Originality) : একজন নেতাকে যথেষ্ঠ পরিমাণ উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী হতে হবে।
৬. সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কার্যাবলী সম্পর্কে ধারণা : (Idea about the function of related department) : নেতাকে তার অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। তাহলে তিনি সুন্দর ও সফলভাবে বিভাগগুলো পরিচালনা করতে স ম হবেন।
৮. দূরদর্শীতা (Foresightedness) : নেতাকে অবশ্য দূরদর্শী হতে হবে। এর ফলে তিনি সুফল অর্জন করতে এবং অসুবিধা এড়াতে সক্ষম হন।
৯.  প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা (Administrative & Organizing Officiency) : নেতাকে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজে দক্ষ হতে হবে। তাহলে তিনি দক্ষতার সাথে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।
১০. সাহস ও আত্মপ্রত্যয়ন (Courage and Self reliance) : সাহসকিতা নেতার একটি উত্তম গুণ। যে কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সম্পাদনের জন্য নেতার যথেষ্ট সাহসিকতার প্রয়োজন রয়েছে। একজন নেতার অদৃশ্য সাহস ও সুদৃঢ় আত্মপ্রত্যয় থাকতে হবে। নেতাকে প্রায়শই নতুন প্রযুক্তি ও ধ্যান ধারণা প্রয়োগের ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হয়। পর্যাপ্ত সাহস, মনোবল ও আত্মপ্রত্যয়ন থাকলে তার পক্ষে যে কোন পরিবেশ পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
১১. দায়িত্ববোধ (Sense of Responsibility) : নেতাকে নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সর্বদাই সচেতন হওয়া বাঞ্ছনীয়। অধস্তন কর্মীবৃন্দের পক্ষে দায়িত্ব এড়িয়ে চলা সম্ভব হলেও কোনো নেতার পক্ষে দায়িত্ব এড়িয়ে চলা সম্ভব হয় না। তাই নেতার দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন।
১২. চারিত্রিক ন্যায়পরায়ণতা (Morally Right and Good) : নেতার চারিত্রিক ন্যায়পরায়ণতা থাকা বাঞ্ছনীয়। তিনি অধস্তনদের নিকট এক আদর্শ ব্যক্তিত্ব। তাঁকে সব সময় হীনমন্যতা, পক্ষপাতিত্ব, অন্যায়, অবিচার, সংকীর্ণতা প্রভৃতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। তবেই তিনি দলের সদস্যবৃন্দ ও অন্য সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারবেন। তাঁকে ন্যায়পরায়ণ, নিরপেক্ষ ও আদর্শবাদী হতে হবে। অধস্তনরা নেতার অন্ধ অনুগামীতে পরিণত হবে।
১৩. ব্যক্তিত্ব (Personality) : নেতাকে অবশ্যই শক্তিশালী ও মোহনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হয়। একজন নেতার ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত ব্যক্তিত্বের অধিকারী ব্যক্তির পক্ষে সহজেই অপরের শ্রদ্ধাভাজন হওয়া সম্ভব হয় এবং এতে তদারক কার্যে জটিলতা হ্রাস পায়। তাই সম্ভাব্য নেতাকে ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রতি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব আরোপ করতে হয়। নেতার ব্যক্তিত্বই নেতাকে অনুসারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
১৪. ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন (Personality Development) : প্রত্যেক সফল নেতার মধ্যে ব্যক্তিক উন্নয়নের প্রবণতা থাকে। ব্যক্তিগত জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য তার মধ্যে কর্মতৎপরতার সৃষ্টি হয় এবং এতে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জন সহজতর হয়। নেতাকে সব সময় পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও সমকালীন বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। এজন্য সময়ের দাবি অনুযায়ী নিজেকে উন্নত করতে হবে।
১৫. কর্মীবৃন্দের উন্নয়ন (Workers Development) : একজন নেতার মধ্যে যেমন ব্যক্তিক উন্নয়নের সামর্থ্য থাকে তেমনি তার অধীনস্থ কর্মীবৃন্দের উন্নয়নের সামর্থ্য থাকাও বাঞ্ছনীয়। কারণ তার অধীনস্থ কর্মীবৃন্দের দক্ষতা বৃদ্ধি না পেলে তার পক্ষে এককভাবে লক্ষ্যার্জন সম্ভব হয় না। নেতা যেসব কর্মীর নেতৃত্ব দেন, সেসব কর্মীরও নির্দেশনা বুঝবার ও তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা থাকতে হবে।
১৬. সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা (General Knowledge and Intelligence) : নেতাকে সকল বিষয়ে সাধারণ জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়। এ জ্ঞান তাকে বিভিন্ন বিষয়ে যে কোন ব্যক্তির সাথে আলাপ আলোচনায় অংশগ্রহণে সমর্থ করে। কাজেই নেতার দেশ বিদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অন্যান্য পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকতে হয়। তাছাড়া একজন আদর্শ নেতা হবেন সুতীক্ষ্ণ মেধা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। তাৎক্ষণিকভাবে যে কোন সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয় বা সমস্যা বুঝাবার মতো বুদ্ধিমত্তা তাঁর থাকতে হবে।
১৭. প্রশিক্ষণ দানের ক্ষমতা (Ability to Training)  : নেতার বিশেষ কার্য সম্পাদনে বিশেষ জ্ঞান থাকলে তিনি অধস্তনদের শিক্ষাদান ও পরিচালনা করতে পারেন। অনুসারীদের অবশ্যই শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হবে। নির্বাহীর বিভিন্ন কার্য সম্বন্ধে সম্যক ধ্যান ধারণা থাকা উচিত। কারণ তার অধীনস্থ কর্মীবৃন্দ যাতে সুষ্ঠুভাবে কার্য সম্পাদনে সক্ষম হয় সে ব্যাপারে কর্মীবৃন্দকে অবহিত করতে হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, কর্মীবৃন্দকে প্রশিক্ষণ দেয়ার মতো সামর্থ্যের অধিকারী হওয়া একজন নির্বাহীর অপরিহার্য দায়িত্ব।
১৮. সহযোগিতার মনোভাব ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষমতা (Co-operative Attitude and Capacity of establishing importance relations) : সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য নেতাকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে নেতাকে কাজ করা উচিত। অধস্তনদের অসুবিধা, দুঃখ-কষ্টের সময় নেতার এগিয়ে আসা উচিত। এটা তাঁর একটি সামাজিক দায়িত্ব। এতে তিনি কম ক্ষেত্রে অধস্তনদের সহযোগিতা পেয়ে থাকেন। আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছাড়াও তার অধস্তন ও সহকর্মীদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের গুণ থাকতে হবে।
১৯. পরামর্শদানের সামর্থ্য (Ability of counselling) : একজন নেতা কতটুকু দক্ষ বা যোগ্য তা অনেকাংশে তার বিচার বুদ্ধি কতটুকু পরিমাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বুঝাতে সক্ষম হলেন তার ওপর নির্ভর করে। সংক্ষেপে বলা যায় নেতা শুধু তার অধীনস্থদেরই নেতৃত্ব দেন না তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও প্রদত্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।
২০. অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার ক্ষমতা (Capacity of understanding others) : নেতাকে অধস্তনদের ও তাঁর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মনস্তত্ত্ব অনুধাবন করতে হবে। আলাপ আলোচনা ও কথাবার্তার মাধ্যমে নেতার অপরপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি বা ইচ্ছা অনিচ্ছা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করার ক্ষমতা থাকা উচিত। সফল নেতৃত্ব দানের জন্য নেতাকে তার অনুগামীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, মনোভাব, মূল্যবোধ, লক্ষ্য, আদর্শ, দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হবে। অধস্তনদের যোগ্যতা ও মেধা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখলেই নেতা তাদেরকে যোগ্যতা অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারবে।
২১. অন্যান্য মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন (Capacity to understand others attitude) : নেতাকে কর্মীদের দিয়ে কাজ করাতে হয়। তাই কর্মীদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হয়। এতে করে কর্মীরা সন্তুষ্ট হন এবং কাজে মনোনিবেশ প্রদান করে।
২২. ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা (Patience) : নেতাকে স্বীয় কর্তব্যের জন্য দায়িত্ববোধ ও ধৈর্য্যশীল হতে হবে। সর্বদাই কর্মীবৃন্দ কাঙ্ক্ষিত আচার আচরণ প্রদর্শন করবে এমন আশা করা যায় না। তাই যে কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়। কোনো অবস্থাতেই তার ধৈর্য্য হারালে চলবে না। যে কোনো উত্তপ্ত ও অস্থিতিশীল পরিবেশে তাকে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
২৩. আন্তরিকতা (Sincerity) : নেতাকে দলের প্রতি ও কাজের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। আন্তরিকতার সাথে দলের কার্য পরিচালনা করলে কাজের অগ্রগতি হয়। ফলে প্রতিষ্ঠান লাভবান হয়। তাই নেতাকে আত্মরিক হওয়া প্রয়োজন।
২৫. আবেগের পরিপক্বতা (Maturity of Mentality) : একজন সফল নেতার মানসিক দিকগুলোর পরিপক্বতা থাকা বাঞ্ছনীয়। কোনো অবস্থাতেই তার ভাবাবেগ দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার বুদ্ধি ও বিচার ক্ষমতা অধিক প্রভাব বিস্তার করা উচিত। নেতাকে অবশ্যই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো যথেষ্ট পরিপক্বতা থাকতে হবে।
২৬. ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা (Abilitly to take quick decision) : নেতার আকস্মিক পরিস্থিতির মেকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার মূল্যায়ন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার  মতা থাকতে হবে। শিল্প-কারখানা বা যে কোন প্রতিষ্ঠানে যে কোন বিষয়ে পরিবেশ পরিস্থিতি ঘোলাটে বা প্রতিকূল হতে পারে। এমনকি কোন না  কোন বিষয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের অসন্তোষের উত্তাল ঢেউ উঠতে পারে। এরূপ পরিস্থিতি বিচক্ষণতার সাথে মোকাবিলা করার মত বিচার বুদ্ধি, ধৈর্য ও সাহস থাকা একজন নেতার জন্য অত্যাবশ্যক। এরূপ পরিস্থিতিতে ১০০% সঠিক ও ত্বরিত সিদ্ধান্ত প্রদান করা নেতার একটি বড় গুণ। এক্ষেত্রে যে কোন ধরনের ভুল নেতার নিজের ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ধ্বংসাত্মক হবে। জটিল বা Critical পরিস্থিতির মোকাবিলার মাধ্যমে সুযোগ্য নেতৃত্বের বিকাশ সম্ভব।
২৭. আত্মসচেতনতা ও আত্মসমালোচনা (Self criticism) : নেতাকে অবশ্যই আত্মসচেতন হতে হবে। বিভিন্ন পরিবেশে তাঁর ভাল মন্দ বুঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। কোন কাজটি ভাল এবং কোন কাজটি মন্দ তা বুঝে তাকে কাজ করে যেতে হবে। তাঁর আত্মসমালোচনা করার মত জ্ঞান বা মতা থাকতে হবে। অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি নিজের কর্মকান্ড ভাল-মন্দ বিচার করে দেখবেন, তবেই তিনি যথার্থ নেতৃত্বের উন্নয়নে সক্ষম হবেন।
২৮. নির্ভরযোগ্য বিচার বুদ্ধি (Dependable judgement) : একটি দলের নেতা ও পরিচালক হিসাবে তার শক্তিশালী বিবেক বুদ্ধি থাকতে হবে, যাতে তিনি কারো প্রতি অবিচার না করে সবারই প্রতি সুবিচার করতে পারেন।
২৯. প্রবর্তনের ক্ষমতা (Power of Innovation) : প্রতিষ্ঠানের সাফল্য বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য নির্বাহীকে উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী হতে হয় এবং নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতির প্রবর্তন করতে হয়। তাই তার মধ্যে কোন কিছু প্রবর্তন করার মতো  মতা থাকা বাঞ্ছনীয়। নেতাকে হতে হবে সৃজনশীল ও মেধাবী।
৩০. যোগাযোগের নৈপুণ্য (Communication skill) : নেতাকে সর্বদা তাঁর আদেশ ও নির্দেশাবলী অধস্তনদের নিকট প্রেরণ করতে হয়। অন্যান্য গুণাবলীর মধ্যে নেতার যোগাযোগ নৈপুণ্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। যত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নেতার মনোভাব অধস্তনের কাছে প্রকাশ করা সম্ভব হয়, ততই তদারকের সফলতা বাড়ে। নেতাকে যোগাযোগের আধুনিক কৌশলগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। পাশাপাশি স্বতঃস্ফূর্ত যোগাযোগ তৈরী করার জন্য নেতাকে তাঁর অধস্তন ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে।
৩৩. সময় সচেতনতা (Time Awareness) : নেতাকে প্রতিনিয়ত সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়। অধীনস্থ কর্মীদের দিয়ে সময়ের কাজ সময়মতো শেষ করতে হবে। এই জন্য নেতাকে সময় সচেতনতা দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন।
৩৪. অনুসন্ধিৎসু মন (Inquisition Mentality) : প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অর্জনের জন্য নেত্র অনুসন্ধিৎসু মনের অধিকারী হওয়া প্রয়োজন। কারণ সব সময় তাকে নতুন নতুন পথের সন্ধান করতে হয় এবং প্রতিষ্ঠানকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সচেষ্ট থাকতে হয়। বিশেষত কর্মী ও কাজ সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জেনে নিতে হবে।
৩৫. নেতৃত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা (Aim of acquiring Leadership) : নিজকে একজন প্রতিষ্ঠিত দক্ষ নেতা হিসাবে গড়ে তোলার বাসনা অবশ্যই থাকতে হবে। যিনি নেতা হবেন তার মনে নেতৃত্ব অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা লক্ষ্য থাকতে হবে এবং নেতৃত্ব অর্জনের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তাকে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে।
৩৬. অধ্যবসায়ী (Perseverance) : নেতাকে অবশ্যই অধ্যবসায়ী হতে হবে। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলে তিনি নেতৃত্বসুলভ গুণ অর্জনে সক্ষম হবেন।
৩৯. সততা প্রতিষ্ঠা (Eastablishing Honesty) : সংগঠনের প্রতিটি বিভাগ ও উপ-বিভাগের সকল স্তরে সততা প্রতিষ্ঠা করতে হয়। নেতা ও কর্মীদের মধ্যে যদি সততা না থাকে তবে কখনই সংগঠনের উন্নতি সম্ভব নয়। উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসাবে সততা প্রতিষ্ঠায় নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪০. মানবীয় সম্পর্কের ধারণা (Knowledge of Human Relations) : নেতাকে তাঁর দলের দলপতি হিসেবে কাজ করতে হয়। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহযোগিতা বজায় রাখার জন্য তাঁর মানবীয় সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত।
৪১. দলীয় মনোবল সৃষ্টি (Creating Group Morality) : একজন নেতার ফলপ্রসূতা তার দলীয় মনোবল সৃষ্টির মধ্যে নিহিত থাকে। দলীয় সদস্যদের কাজ এবং দলীয় লক্ষ্য যাতে সর্বদা সঙ্গতিপূর্ণ থাকে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। নেতা অবশ্যই দল সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা রাখবেন। দলীয় সদস্যদের চাহিদা, সমস্যা, দুর্বলতা ইত্যাদি জেনেই দলের মনোবলকে চাঙ্গা করতে হবে।
৪২. নমনীয়তা ও স্থিতিস্থাপকতা (Flexibility & Elasticity) : কার্যে সফলতা লাভের জন্য একজন নেতার অবশ্যই নমনীয় মনোভাব থাকা বাঞ্ছনীয়। কোন বিষয়ে তার ধ্যান-ধারণা যত সঠিক বলে প্রতীয়মান হোক না কেন অধস্তন কর্মীবৃন্দের ইচ্ছের বিরুদ্ধে উক্ত ধারণার বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। তাই তার সর্বদাই অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করার মতো মন মানসিকতা থাকা উচিত।
৪৩. সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা (Mentality to Accept Criticism) : একজন সফলকাম নির্বাহীর স্বীয় কার্যের সমালোচনা সহ্য করার মতো সামর্থ্য অর্জন করা বাঞ্ছনীয়। প্রতিটি কর্মী যাতে নির্ভয়ে তার অভিমত প্রকাশে সক্ষম হয় সে জাতীয় পরিবেশ উন্নয়নের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। কর্মীদেরকে নেতার সিদ্ধান্তের ভুল ত্রুটি সম্পর্কে গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ দিতে হবে। নেতাকে এসব সমালোচনা আন্তরিকতার সাথে গ্রহণের মানসিকতা রাখতে হবে।
৪৪. ব্যক্তিক প্রণোদনা (Personal Motivation) : নেতার নেতৃত্ব প্রদানের ইচ্ছে থাকা বাঞ্ছনীয়। তার মধ্যে নেতৃত্ব প্রদানের স্পৃহা বর্তমান না থাকলে নেতৃত্ব সুলভ গুণাবলী উন্নয়নের সম্ভাবনা থাকে না। সেদিক হতে ব্যক্তিক প্রণোদনা নেতৃত্ব বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নেতৃত্ব দেবার প্রবণতা বা ঝোঁক নেতার মধ্যে থাকতে হবে। নিজে কাজে উৎসাহ না পেলে নেতা কখনো সফল নেতৃত্ব দিতে পারবে না।
৪৫. কারিগরি সামর্থ্য (Technical Ability) : সর্বক্ষেত্রে কারিগরি সামর্থ্য অপরিহার্য না হলেও কোনো কোন ক্ষেত্রে কার্যের সফলতা অর্জনের জন্য নেতার কারিগরি বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারিগরি বিষয়ে নেতা জ্ঞাত হারে কর্মীবৃন্দের কাজে ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বহুলাংশে হ্রাস পায়। নেতার প্রযুক্তিগত ধারণা কাজের তদারকির মাত্রাকে অনেক বেশি কার্যকর করে।
৪৬. সামাজিক নৈপুণ্য (Social Skill) : নেতাকে সমাজ ও সমাজের বিভিন্ন চালক সম্বন্ধে সমক্যভাবে অবহিত হতে হয়। তা না হলে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীবৃন্দের ভাবাবেগ, ইচ্ছে অনিচ্ছে ও আচার আচরণের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। সমাজ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণ থাকলে কর্মীদের খুব সহজেই প্রয়োজনীয় উদ্দীপনার জোগান দেয়া সম্ভব হবে।
৪৭. সহযোগিতার মনোভাব ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষমতা (Co-operative Attitude and Capacity of Establishing Informal Relations) : সুযোগ্য নেতার সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করা উচিত। অধস্তনদের অসুবিধা, দুঃখ-কষ্টের সময় নেতার এগিয়ে আসা উচিত। এটা তার একটি সামাজিক দায়িত্ব। এতে তিনি কর্মক্ষেত্রে অধস্তনদের সহযোগিতা পেয়ে থাকেন। আনুষ্ঠানিক সর্ম্পক ছাড়াও তার অধস্তন ও সহকর্মীদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সর্ম্পক স্থাপনের গুণ থাকতে হবে।
৪৮. বিশ্লেষণিক ক্ষমতা (Analytical Power) : বিভিন্ন সমস্যাদি বিচার বিশ্লেষণ করে সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা একজন নেতার থাকতে হবে। তার বিশ্লেষণ ক্ষমতা না থাকলে সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রায় সময়ই সম্ভব হয় না। সে দিক থেকে সফল নেতার বিশ্লেষণিক ক্ষমতার অধিকারী হওয়া প্রয়োজন। নেতাকে তার অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে যে কোনো সমস্যাকে বিচার বিবেচনা করতে হয়।


You can read:-Self-management,
                 setting SMART goals